Wednesday, August 10, 2022
Homeইতিহাসযুদ্ধ না শান্তি চাই

যুদ্ধ না শান্তি চাই

ভূমিকা:
এই পৃথিবীর রূপ আসলে ভীষণ সুন্দর। সৃষ্টিকর্তা তার শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে এই পৃথিবীকে অপরূপ প্রকৃতি দ্বারা সাজিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের সাধারন চোখে বিশ্বের এই অপরূপ রূপ ধরা দেয় না। তার কারণ মানুষের অহংকারী সভ্যতা দ্বারা এ বিশ্বকে কলুষিত করেছি আমরাই। অহংকারী মানবজাতির তেমনি একটি ভয়ঙ্কর সৃষ্টি হল যুদ্ধ।

লোভ, হিংসা, দ্বেষ এই সবই জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। কিন্তু সেই সকল আবেগ গুলিকে যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই মান আর হুশ নিয়ে মানুষের জন্ম। কিন্তু মানুষ নিজের সেই মনুষত্বকে জলাঞ্জলি দিয়ে সেই সুদূর অতীতকাল থেকে নিজেদের দানবীয় আবেগের বশবর্তী হয়ে পরস্পরের মধ্যে লিপ্ত হয়েছে যুদ্ধে। কালের নিয়মে যুদ্ধের রূপ বদলেছে, যুদ্ধ হয়েছে নৃশংস থেকে নৃশংসতর; যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক রূপ আরো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বিধ্বংসী যুদ্ধের সেই ভয়াবহ রূপের সাক্ষী হয়ে আজ পৃথিবীর শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের মধ্যে আওয়াজ উঠেছে যুদ্ধ নয় শান্তি চাই।

যুদ্ধ না শান্তি চাই
রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ

পৃথিবীর ইতিহাসে যুদ্ধ:
পৃথিবীর বুকে যুদ্ধের ইতিহাস অতি প্রাচীন। সম্ভবত যেদিন থেকে পৃথিবীতে মানুষের জন্ম সেই দিন থেকে এ বিশ্বে মানুষে মানুষে দ্বন্দ্বেরও জন্ম। সেই দ্বন্দ্বেরই চূড়ান্ত রূপ হিসেবে পরিণতি পায় বিধ্বংসী যুদ্ধ। পৃথিবীর ইতিহাস এমন অসংখ্য যুদ্ধের সাক্ষী। বিভিন্ন ঐতিহাসিক প্রমাণ, প্রাচীন সাহিত্য ইত্যাদি থেকে আমরা এমন বহু যুদ্ধের কথা জানতে পারি।

ইতিহাস আমাদের জানিয়েছে পানিপথের যুদ্ধগুলির কথা, অতীতকালের সাহিত্য মহাভারত থেকে আমরা জানতে পেরেছি কুরুক্ষেত্রের ভয়ঙ্কর যুদ্ধের কথা, ঋকবেদ থেকে জানতে পেরেছি দশ রাজার যুদ্ধের কথা, গ্রীক মহাকাব্য থেকে জেনেছি ভয়ঙ্কর যুদ্ধে ট্রয় নগরীর পতনের কথা। প্রতিটি যুদ্ধের শেষ হয়েছে ভয়ঙ্কর রক্তপাতের মধ্যে দিয়ে। আর সেই রক্তস্নাত ভূমির ওপর দাঁড়িয়ে বিজয়ী গোষ্ঠীর পৈশাচিক উল্লাস মানুষের মনের অন্তঃস্থলে লুকিয়ে থাকা বর্বরতারই সাক্ষ্য বহন করেছে।

আধুনিক যুদ্ধের রূপ:
ইতিহাসের চাকার উপর ভর করে সময় যত এগিয়েছে অন্যান্য পরিবর্তনের সাথে সাথে পৃথিবীর বুকে পরিবর্তিত হয়েছে যুদ্ধের রূপও। অতীতকালে যুদ্ধ হতো মুখোমুখি, যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো তরবারি, বর্শা, তীর ধনুক ইত্যাদি। তারপর কালের নিয়মে দৃশ্য থেকে যুদ্ধের ময়দানে এইসব যুদ্ধাস্ত্রের ব্যবহার বিলুপ্ত হয়ে গেল।

তার স্থান দখল করলো আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। এই আগ্নেয়াস্ত্রগুলির তালিকায় প্রথম সংযোজন হল তোপ বা কামান। তারপর সময় যত এগিয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রগুলির চরিত্রে ততই লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। সময়ের সাথে সাথে পৃথিবী দেখেছে যুদ্ধের ময়দানে বন্দুক, গুলি-বোমা ইত্যাদির আবির্ভাব।

অবশেষে পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিকতম যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে আবিষ্কৃত হয়েছে পরমাণু বোমা যা যুদ্ধের ময়দান তো বটেই পৃথিবীর সার্বিক সামাজিক চরিত্রকেও আমূল বদলে দিয়েছে। অতীতের প্রত্যক্ষ নৃশংসতা হয়তো এই নতুন নতুন যুদ্ধাস্ত্র আবিষ্কারের ফলে খানিক কমেছে, কিন্তু আসলে যুদ্ধের রূপ বর্তমানে পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন  বিজ্ঞানী আর্কিমিডিস কি কি কাজের জন্য বিখ্যাত? আর্কিমিডিস কেনো নগ্ন হয়ে দৌড়ে ছিলেন?

যুদ্ধের ভয়াবহতা:
যুদ্ধ যে কত ভয়াবহ হতে পারে তার পরিচয় পৃথিবী বারবার পেয়েছে। ইতিহাসে আমরা দেখেছি ভয়াবহ যুদ্ধের ফলে একের পর এক নগরী নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে। মহাভারতে আমরা দেখেছি ভয়ংকর যুদ্ধ বহু বংশ নির্বংশ হয়ে যেতে। গ্রিক মহাকাব্যে পৃথিবী দেখেছে ভয়াবহ যুদ্ধে উন্নত ট্রয় নগরীর শোচনীয় পতন। আধুনিককালেও যুদ্ধের এই ভয়াবহতা কিছুমাত্র কমেনি। তার সাম্প্রতিকতম নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা যায় বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর দুটি মহাযুদ্ধের কথা। এই দুটি মহাযুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজেদের জীবন হারিয়েছেন, শত শত শহর জনশূন্য হয়ে গেছে, লক্ষ লক্ষ মানুষের অঙ্গহানি ঘটেছে; আর সর্বোপরি মানুষের আবিষ্কৃত আধুনিকতম যুদ্ধাস্ত্র পরমাণু বোমা নিক্ষেপ করে বিশ্বের থেকে দুইটি একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

এই দুটি মহাযুদ্ধের এমন ভয়াবহতা সত্বেও যুদ্ধের পথ থেকে সরে আসে নি। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলি নিজেদের লালসা এবং হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে কখনো আফগানিস্থান আবার কখনো ভিয়েতনামে ভয়ঙ্কর সব আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র দ্বারা যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছে।

যুদ্ধ পরবর্তী ফলাফল:
যুদ্ধ কখনো ব্যবহৃত যুদ্ধাস্ত্রের সংঘর্ষের সঙ্গেই শেষ হয়ে যায় না। যুদ্ধ চলে সংঘর্ষ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও বহুকাল ধরে। একটি যুদ্ধের ফল যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া দেশকে ভোগ করতে হয় সুদীর্ঘকাল ব্যাপী। পরাজিত কিংবা বিজিত যে দেশই হোক না কেন যুদ্ধের মূল্য উভয়কেই চুকাতে হয়।

সমাজতত্ত্ববিদরা বলে থাকেন একটি যুদ্ধ একটি দেশকে ১০০ বছরেরও বেশি সময় পিছিয়ে দেয়। একটি যুদ্ধে যে পরিমাণ অর্থবল এবং লোকবল প্রয়োজন হয় তা সংশ্লিষ্ট দেশটির উন্নয়নের কাজে লাগালে সেই দেশের অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হতে পারে। তাছাড়া যুদ্ধান্তে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন যুদ্ধরত দেশ গুলিকে হতে হয় তা পূরণ করতেই বহু সময় লেগে যায়।

এছাড়াও আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র প্রয়োগের ফলে একটি দেশের কোন নির্দিষ্ট স্থান দীর্ঘকালের জন্য বসবাসের অযোগ্য হয়ে যেতে পারে। এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল পরমাণু বোমা প্রয়োগের ফলে জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকি শহরের যুদ্ধপরবর্তী পরিণতি।

যুদ্ধ ও শান্তি:
শান্তি হলো বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত বিষয়। একসময় মনে করা হতো শান্তি স্থাপনের জন্য বোধহয় যুদ্ধ করা হয়। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সমাজতত্ত্ববিদরা ধারণার অসারতা বিশ্বের কাছে প্রমাণ করেছেন। তারা দেখিয়েছেন পৃথিবীতে এমন কোন সমস্যা নেই যার সমাধান যুদ্ধ ছাড়া সম্ভব নয়।
প্রকারান্তরে যুদ্ধ শান্তি তো আনেই না, বরং দীর্ঘকালীন ব্যাপী একটি অশান্তির বাতাবরণ তৈরি করে। একটি যুদ্ধই পরবর্তী অপর একটি যুদ্ধের পথ প্রশস্ত করে থাকে। এ প্রসঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ হিসেবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মধ্যে নিহিত থাকা বৈষম্যমূলক শান্তিচুক্তি গুলির কথা বারবার উঠে আসে। তাই যুদ্ধ দিয়ে শান্তি আনা সম্ভব নয়। বরং শান্তির উপায় হতে পারে পারস্পারিক আলোচনা, সমঝোতা এবং কূটনীতি।

আরও পড়ুন  চেচনিয়া মুসলিম গণহত্যা ও নির্যাতনের নির্মম ইতিহাস

বিশ্ব শান্তির গুরুত্ব:
সমগ্র বিশ্বব্যাপী বিরাজমান শান্তি হলো বিশ্ব শান্তির সার্থক পরিণত রূপ। বিশ্বশান্তির এই সার্থক রূপ আমরা আজও অর্জন করতে পারিনি। তবে বিশ্বশান্তির ব্যাপক গুরুত্ব অনুধাবন করতে আজ আমরা সক্ষম হয়েছি। আমরা বুঝতে পেরেছি মানব জাতির উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সকলের সঙ্গে একই সাথে সার্বিক উন্নতি।

আমরা বুঝেছি মানুষ কখনো একা বাঁচতে পারে না। তাই আধুনিক বিশ্বের শ্লোগান হয়েছে ‘বাঁচো এবং বাঁচতে দাও’। এই বাঁচা এবং বাঁচতে দেওয়ার উদ্দেশ্য পূরণের জন্য পৃথিবী থেকে যুদ্ধের আমুল দূরীকরণ একান্ত প্রয়োজন। বিশ্ব থেকে যুদ্ধ দূরীভূত হয়ে বিশ্বশান্তি স্থাপিত হলে তবেই সমগ্র বিশ্বের সকল আকাঙ্ক্ষা সার্থকভাবে পূরণ হতে পারে।

এ পৃথিবী মানব সমাজের জন্য বিশ্বজুড়ে অফুরন্ত উপহারের ভান্ডার সাজিয়ে রেখেছে। মানুষ যুদ্ধ করে তাকে বিনষ্ট করে মাত্র, এতে আদপে কোন পক্ষেরই স্বার্থসিদ্ধি হয়না। কিন্তু বিশ্বশান্তির দ্বারা প্রকৃতির দেওয়া উপহারের ভান্ডারকে ব্যবহার করে কাঙ্ক্ষিত সেই সকল উদ্দেশ্য সাধন করা সম্ভব।

বিশ্ব শান্তি স্থাপনের উদ্যোগ:
পৃথিবীজুড়ে যুদ্ধের ব্যাপক ভয়াবহতার সাক্ষী হয়ে বিংশ শতকের প্রথম ভাগে যখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলো তারপর থেকেই বিশ্ব শান্তির লক্ষ্যে পৃথিবীর সুধীজনেরা সওয়াল করে চলেছেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষে প্যারিস শান্তি সম্মেলনে বিশ্ব শান্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে প্রথমবার গঠিত হলো একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন যার নাম ‘লীগ অফ নেশনস’।

যদিও এই সংগঠনটি তার গঠনকাঠামোগত দুর্বলতার কারণেশান্তি স্থাপনে ব্যর্থ হয়েছিল তবুও প্রথমবার বিশ্বশান্তির লক্ষ্যে স্থাপন করা এই সংগঠনের উদ্যোগের গুরুত্বকে অন্তত অস্বীকার করা যায় না। এই সংগঠনটির ব্যর্থতাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে স্থাপন হওয়া ইউনাইটেড নেশনস বা সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠার পথ রচনা করেছিল।

এই সংগঠনটি বর্তমানে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মানব উন্নয়নমূলক কর্মসূচিকে উৎসাহ দিয়ে থাকে। এই সংগঠনটি ছাড়াও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে মহাদেশীয় স্তরেও বিভিন্ন সংগঠন স্থাপন এবং চুক্তির কথা উল্লেখ করা যায়। আন্তর্জাতিক এবং মহাদেশীয় এইসকল সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি অলাভজনক সংস্থা বিশ্ব শান্তির লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে।

আরও পড়ুন  ইতিহাসের প্রথম বিজ্ঞানী থেলিস, তাঁর আবিষ্কার এবং 4টি উক্তি

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল
এই যুদ্ধের ফলাফল ছিল সেসময়ের জন্য ভয়াবহ ব্যপার। এর পূর্বে যতগুলো যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল সেগুলো থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মৃত্যুর সংখ্যা ছিল দ্বিগুণ বেশি। বিশ্বের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ এই যুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়ে। মিত্রশক্তি জোটের সবচেয়ে বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে। সামিরক লোকের চেয়ে বেসামরিক সাধারণ লোকের মৃত্যু হয়েছে বেশি। যুদ্ধাবস্থায় খাদ্যভাব, রোগ ও মহামারির কারণে এসকল সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া যুদ্ধরত সকল দেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সর্বপ্রথম বিভিন্ন মরণাস্ত্রের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। বোমারু বিমান, সাবমেরিন, ভারী কামান, ট্যাংক, বিস্ফোরক বোমা, এবং বিষাক্ত গ্যাসের মত মরণঘাতি অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছিল এতে।

ভারতবর্ষে যুদ্ধ ও শান্তির ঐতিহ্য:
সুপ্রাচীন সভ্যতাসমূহের বিকাশভূমি ভারতবর্ষে যুদ্ধ ও শান্তির এক মহান ঐতিহ্য রয়েছে। ভারতবর্ষ তার ইতিহাস দিয়ে, সাহিত্য দিয়ে যুদ্ধ এবং শান্তি উভয়ের রূপকে পৃথিবীর কাছে তুলে ধরে। যেমন মহান ভারতীয় মহাকাব্য মহাভারতে যুদ্ধের বিধ্বংসী রূপ যেমন দেখা যায়, তেমনি যুদ্ধ পরবর্তী আদর্শ শান্তির বাতাবরণও দেখা যায়।

অন্যদিকে ভারতবর্ষের ইতিহাসে মহান সম্রাট অশোকের কলিঙ্গ যুদ্ধে নরসংহারের নিদর্শন যেমন আছে, তেমনি সেই বীভৎস পরিণতি থেকে শিক্ষা নিয়ে সম্রাট অশোকের বিশ্ব শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে ধম্মবিজয়ের নিদর্শনও রয়েছে।

এছাড়া আধুনিক যুগে দেখতে গেলেও ভারত বর্ষ স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনে প্রধান পথপ্রদর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। বিশ শতকের ষাটের দশকে ভারতের তত্ত্বাবধানেই অবসান ঘটেছে কোরিয়ার সংকটের। সে কারণেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত বিশ্বশান্তির এক অন্যতম প্রবক্তা এবং অগ্রদূত হিসেবে পরিগণিত হয়।

উপসংহার:
সৃষ্টিকর্তা মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন বুদ্ধি, মান এবং হুঁশ দিয়ে। সেই মান এবং হুঁশ হারিয়ে ফেলে সংকীর্ণ আবেগের বশবর্তী অবস্থায় হতবুদ্ধি হয়ে মানুষ আত্মধ্বংসের যজ্ঞে লিপ্ত হয়। মানবজীবনের উদ্দেশ্য কখনো ধ্বংস করা হতে পারে না।

সৃষ্টিকর্তার শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টি হিসেবে মানব জীবনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শুধুমাত্র নতুন সৃজনশীল সৃষ্টি যা মানব কল্যাণের কাজে আসবে। বিশ্বব্যাপী সার্বিক উন্নয়নের এমন পরিবেশ কেবলমাত্র রচিত হতে পারে বিশ্ব থেকে যুদ্ধকে সম্পূর্ণরূপে দূরীভূত করে বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার দ্বারা পৃথিবীর সার্বিক উন্নয়নের মধ্যেই মানব জীবনের প্রকৃত সার্থকতা লুকিয়ে আছে।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Related articles