Wednesday, August 10, 2022
Homeস্বাস্থ্য টিপসমেয়েদের যৌনাঙ্গে চুলকানি হওয়ার 15টি কারন প্রতিরোধ ও প্রতিকার

মেয়েদের যৌনাঙ্গে চুলকানি হওয়ার 15টি কারন প্রতিরোধ ও প্রতিকার

মেয়েদের যৌনাঙ্গে চুলকানি বা ইচিং হওয়ার কারন ও প্রতিকার

আমরা যারা মেয়ে, আমাদের প্রতিদিন কতই না সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়। ঘর থেকে শুরু করে শরীর সব দিক থেকে অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়।

মেয়েদের যৌনাঙ্গে চুলকানি বা ইচিং হওয়ার কারন ও প্রতিকার
মেয়েদের যৌনাঙ্গে চুলকানি বা ইচিং হওয়ার কারন ও প্রতিকার

আজকে মেয়েদের একটি অতি পরিচিত কিন্তু অতি বিব্রতকর একটি সমস্যা নিয়ে আলোচনা করব। আর তা হলো যৌনাঙ্গে চুলকানি বা
ইচিং ।

এটি খুবই কমন একটি অসুখ। মেয়েরা ৫ থেকে শুরু করে ৬০ বছর বয়সের যে কোন সময় এই সমস্যায় পড়তে পারে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে প্রত্যেক ৪ জন মহিলার মধ্যে ৩ জনেরই জীবনের কোন না কোন সময় একবার হলেও এই সমস্যায় ভুগে থাকেন। তাই এর গুরুত্বও কম নয়। চলুন আজ এই অসুখটি সম্পর্কে জানি।

যৌনাঙ্গে চুলকানি বা ইচিং হওয়ার কারণ

কোন অসুখ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের আগে আমাদের জানতে হবে অসুখটার কারণ কি?

কেনোনা কারণ জানলে অসুখ মোকাবেলা সহজ হয়। যোনিতে অনেক কারণে চুলকানি হতে পারে। তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য কারণসমূহহলো-

১. ঈস্ট বা ছত্রাকের আক্রমণ

এটি যৌনাঙ্গের চুলকানি বা ইচিং হওয়ার অন্যতম কারণ। সাধারণত Candida Albicans, এই ছত্রাকের কারণে যোনিতে চুলকানি হয়। এই ছত্রাক নরমালি মেয়েদের যৌনাঙ্গে পরজীবী
হিসেবে থাকে। কিছু ল্যাকলোব্যাসিলাস নামে উপকারী ব্যাকটেরিয়া এই ছত্রাকের বংশবিস্তারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।

মেয়েদের যৌনাঙ্গে চুলকানি বা ইচিং হওয়ার কারন ও প্রতিকার
মেয়েদের যৌনাঙ্গে চুলকানি বা ইচিং

কিন্তু এন্টিবায়োটিক খেলে, গর্ভাবস্থায়, দুশ্চিন্তা গ্রস্থ থাকলে, হরমোনাল ইমব্যালেন্স থাকলে ও খাদ্যাভাসের কারণে এই উপকারী ব্যাকটেরিয়া মরে যায়, ফলে ঈস্টগুলো তাদের জন্মের জন্য অনুকূল পরিবেশ পায়। এর কারণে যোনিতে ইনফেকশন হয়।

আরও পড়ুন  থ্যালাসেমিয়া রোগের কারন কী? থ্যালাসেমিয়া রোগের লক্ষণ এবং চিকিৎসা part 1

ঈস্টের আক্রমণে যৌনাঙ্গ চুলকানির উপসর্গ

– যোনি পথ দিয়ে ঘন, সাদা তরলের নির্গমন হয়।
– চুলকানি, ব্যথা ও প্রদাহ হয়।
– যৌন মিলনের সময় ব্যথ্যা হয়।

২. ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিসের সংক্রম

এটি ভ্যাজাইনা বা যোনিতে চুলকানি হওয়ার অন্যতম কারণ। যোনিতে নরমালি কিছু ব্যাকটেরিয়া থাকে। যখন কোন কারণে এই ব্যাকটেরিয়া গুলোর অনেক বেশি বংশবিস্তার ঘটে তখন যোনিতে ইনফেকশন হয়।

ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিসের সংক্রমণ উপসর্গ

– গন্ধযুক্ত ও মাছের আশঁটে গন্ধযুক্ত তরল নির্গত হয় যোনি দিয়ে।
– চুলকানি হয় প্রচুর।
– প্রসাবের সময় জ্বালাপোড়া হওয়া।

৩. ট্রাইকোমোনিয়াসিস-এর আক্রমণ

এটি একটি প্যারাসাইট। এটির আক্রমণে যৌনাঙ্গে চুলকানি হয়।

ট্রাইকোমোনিয়াসিস-এর আক্রমণ উপসর্গ

– হলুদ, সবুজ রঙের ও খুব তীব্র বাজে দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব হয়।
– তলপেটে ব্যথ্যা হয়।
– যৌনাঙ্গে চুলকানি হয়।

৪. এছাড়াও যৌনাঙ্গে উকুন, খোসপাচড়া ও মাইকোপ্লাজমা জেনেটালিয়াম এর সংক্রমণ হলে যোনিতে চুলকানি হয়।

৫. কিছু সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ যেমন – সিফিলিস, গনোরিয়া, এইডস ইত্যাদির কারণে যৌনাঙ্গে ইচিং বা চুলকানি হতে পারে।

৬. বিভিন্ন বিরক্তিকর পদার্থ যেমন – বিভিন্ন ডিটারজেন্ট, কেমিক্যাল, সুগন্ধিযুক্ত সাবান, রঙ ওয়ালা টিশ্যু পেপার, ফেমিনিন হাইজেনিক স্প্রে, ডুশ ব্যবহার করলে যোনিতে চুলকানি হতে পারে।

৭. মেনোপোজের পর মহিলাদের ইস্ট্রোজেন নামক
হরমোন কমে যায়। ফলে যোনি শুকিয়ে যায়। এর ফলেনবিভিন্ন পরজীবীর সংক্রমণ হয়। ফলে যোনিতে ইচিং হয় ।

৮. ডায়াবেটিস, রেনাল ডিজিজ, একজিমা ও রক্তে কোন রোগ থাকলে ও অন্যান্য কোন রোগ থাকলেও যৌনাঙ্গে চুলকানি হয়।

৯. মাসিকের সময় , অস্বাস্থ্যকর প্যাড ও কাপড় ব্যবহারনকরলে।

১০. যৌনকর্মীদের এই রোগগুলো বেশি হয়। তাই অবাধ যৌন আচরণের কারণে হয়ে থাকে।

১১. যৌনাঙ্গ সবসময় গরম ও আর্দ্র রাখলে।

১২. অপরিষ্কার থাকলে।

যৌনাঙ্গে চুলকানি প্রতিকার

১. ছত্রাকের সংক্রমণ হলে, এন্টিফাংগাল ওষুধ যেমন –
ketoconazole, miconazole, clotrimazole, tioconazole, fluconazole ইত্যাদি ওষুধ খেতে হয় ৩ থেকে ৫ দিন।

আরও পড়ুন  থ্যালাসেমিয়া রোগের কারন কী? থ্যালাসেমিয়া রোগের লক্ষণ এবং চিকিৎসা part 1

তবে কিছু ওষুধ একদিনেও কাজ করে। তাই ডোজ ও কতদিন খাবেন তা জানতে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এছাড়া lactobacillus acidophilus ট্যাবলেট খাওয়া যেতে পারে এর সাথে।

২. ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে এন্টিব্যায়োটিক ড্রাগস খেতে হয়। যে এন্টিবায়োটিকই খান না কেন তা কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ দিন খাবেন।

৩. প্যারাসাইটের সংক্রমণ হলে Metronidazole খেতে পারেন। এছাড়াও vaginal clindamycin cream (clencin) or tinidazole এইগুলো যোনিতে লাগাতে হয়।

৪. বেশি চুলকানি হলে Lidocaine নামক জেল আক্রান্ত স্থানে লাগাতে পারেন। এতে সাময়িক আরাম হবে। কিন্তু পুরা সেরে যাবেনা। তাই ডাক্তারকে দেখাবেন।

৫. চুলকানি কমানোর জন্য এন্টিহিস্টামিন যেমন –
fexofenadine, loratadine খেতে পারেন।

৬. এছাড়া প্রদাহ কমাতে steroid cream ব্যবহার করা যেতে পারে।

৭. মেনোপোজের পর চুলকানি হলে ইস্ট্রোজেন
সাপোজেটরি যোনিপথে ব্যবহার করা যেতে পারে।

যৌনাঙ্গে চুলকানি প্রতিরোধ

বলা হয়ে থাকে যে কোন অসুখ প্রতিকারের চেয়ে
প্রতিরোধ করাই বেশি ভাল। সুতরাং এই রোগটি যাতে আপনার না হয় তাই আগেই সাবধান থাকুন ও নিচের কথাগুলো মেনে চলুন।

১. রঙীন ও বেশি সুগন্ধিযুক্ত টয়লেট টিস্যু ও সাবান যৌনাঙ্গে ব্যবহার করবেন না।

২. ফেমিনিন হাইজিন স্প্রে ও ডুশ ব্যবহার করবেন না।

৩. ভেজা কাপড় পরে বেশিক্ষণ থাকবেন না। গোসল বা ব্যায়ামের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভেজা কাপড়টি পাল্টে নিবেন। যারা সুইমিং পুলে সাঁতার কাটেন তাদের ক্লোরিনের কারণেও ইচিং হতে পারে , তাই সাবধান হন।

৪. আপনার যৌনাঙ্গ পরিষ্কার রাখুন সবসময়। আর প্রসাব বা পায়খানা করার সময় হাত দিয়ে সামনে থেকে পেছনে এই নিয়মে পরিষ্কার করতে হবে। খেয়াল রাখবেন পায়খানার রাস্তার জীবাণু যেন যোনিতে না লাগে।

৫. দই খান, এতে ল্যাকটোব্যাসিলাস নামক উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে।

৬. সুতির কাপড় দিয়ে তৈরি অন্তর্বাস বা পেন্টি পরুন। সিনথেটিক পেন্টি পরবেন না।

আরও পড়ুন  থ্যালাসেমিয়া রোগের কারন কী? থ্যালাসেমিয়া রোগের লক্ষণ এবং চিকিৎসা part 1

৭. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

৮. ওজন কমান।

৯. সহবাসের সময় কনডম ব্যবহার করুন।

১০. যোনি আর্দ্র ও ভেজা রাখবেন না।

১১. মাসিকের সময় নোংরা কাপড় ব্যবহার করবেন না। পরিষ্কার প্যাড ব্যবহার করুন।

১২. সহবাসের পর যৌনাঙ্গ ভাল ভাবে পরিষ্কার করুন। ধুয়ে ফেলুন।

১৩. সহবাসের পর প্রসাব করুন।

১৪. একাধিক ব্যক্তির সাথে যৌন সহবাস পরিত্যাগ করুন।

১৫. নিয়মিত গোসল করুন। এই অসুখটি হলে অবশ্যই একজন গাইনোকোলজিস্ট বা একজন ডার্মাটোলজিস্ট বা চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞের
কাছে যান। অবহেলা করবেন না বা লজ্জা পাবেন না। কারণ এর ফলে পরবর্তীতে আরও খারাপ কিছু হতে পারে।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Related articles