Wednesday, August 10, 2022
Homeস্বাস্থ্য টিপসথ্যালাসেমিয়া রোগের কারন কী? থ্যালাসেমিয়া রোগের লক্ষণ এবং চিকিৎসা part 1

থ্যালাসেমিয়া রোগের কারন কী? থ্যালাসেমিয়া রোগের লক্ষণ এবং চিকিৎসা part 1

থ্যালাসেমিয়া রোগের কারন কী? থ্যালাসেমিয়া রোগের লক্ষণ এবং চিকিৎসা

থ্যালাসেমিয়া রোগ (Thalassemia) একটি বংশগত রক্তের রোগ। রক্তের হিমোগ্লোবিনের উৎপাদন ত্রুটির কারণে এ রোগ হয়ে থাকে। থ্যালাসেমিয়ায় অাক্রান্ত ব্যক্তি রক্তস্বল্পতা বা এনিমিয়াতে ভুগে থাকেন। থ্যালাসেমিয়ার কারণে অবসাদগ্রস্ততা থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

আমরা সবাই থ্যালাসেমিয়া রোগের নামটি শুনেছি কিন্তু হয়তো খুব কম মানুষই আছি যারা এর সাথে সম্পূর্ণভাবে পরিচিত। থ্যালাসেমিয়া হলো রক্তের এক ধরনের অসুস্থতা যা বংশগতভাবে আমাদের আক্রমণ করে। থ্যালাসেমিয়ার কারণে আমাদের শরীর সামান্য কিছু স্বাস্থ্যকর লাল রক্ত কণিকা উৎপন্ন করে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে কম পরিমাণ হিমোগ্লোবিন তৈরি করে। হিমোগ্লোবিন হল লাল লোহিত কনিকায় নিহিত এক ধরনের প্রোটিন যা অক্সিজেন বহন করে। হিমোগ্লবিন লাল লোহিত কনিকার খুব প্রয়োজনীয় উপাদান। প্রত্যেক মানুষই হয় নরমাল না হয় থ্যালাসেমিয়া মেজর অথবা থ্যালাসেমিয়া মাইনরের অধিকারী হয়ে থাকেন। থ্যালাসেমিয়া মেজর তখন হয় যখন শিশু বাবা-মা ২ জনের কাছ থেকে ১টি করে মিউটেটেড জিনের (Mutated Gene) অধিকারী হয়। এসব শিশুরা স্বাভাবিক, পরিণত হিমোগ্লোবিন (Hemoglobin) তৈরিতে অক্ষম থাকে। থ্যালাসেমিয়া ট্রেইটকে (Thalassemia trait) মাঝে মাঝে থ্যালাসেমিয়া মাইনর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এরা বাবা-মা যেকোনো ১ জনের কাছ থেকে ত্রুটিপূর্ণ জিন গ্রহন করে। থ্যালাসেমিয়া মাইনর, থ্যালাসেমিয়া মেজর থেকে অনেকটা নিরাপদ। থ্যালাসেমিয়ার কারণে অ্যানিমিয়া (Anemia) দেখা দিতে পারে।

থ্যালাসেমিয়া রোগ  হওয়ার কারণ

হিমোগ্লোবিন ২ ধরনের প্রোটিন দ্বারা তৈরি – আলফা গ্লোবিন ও বিটা গ্লোবিন। থ্যালাসেমিয়া তখনই হয় যখন এই ২টি প্রোটিন উৎপন্নে সাহায্যকারী জিনে কোন ত্রুটি দেখা দেয়।

থ্যালাসেমিয়া আবার ২ প্রকারের। একটি হচ্ছে আলফা থ্যালাসেমিয়া ও অন্যটি হচ্ছে বিটা থ্যালাসেমিয়া।

 

১. আলফা থ্যালাসেমিয়া তখন দেখা দেয় যখন আলফা গ্লোবিন প্রোটিনের (Alpha Globin Protein) সাথে সম্পর্কিত জিন পরিবর্তিত থাকে অথবা অনুপস্থিত থাকে।

২. আর যখন ত্রুটিপূর্ণ জিনগুলো বেটা গ্লোবিন প্রোটিন (Beta Globin Protein) উৎপন্নে বাঁধা দেয় তখন বেটা থ্যালাসেমিয়া হয়।

 

থ্যালাসেমিয়ার রোগের লক্ষণ

থ্যালাসেমিয়া রোগের কারন, লক্ষণ এবং চিকিৎসা কি?
সাধারণত থ্যালাসেমিয়ার ধরণ আর তিব্রতার উপর লক্ষণ নির্ভর করে। কিছু কিছু শিশু জন্মগত ভাবেই থ্যালাসেমিয়ার লক্ষণ নিয়ে জন্মায়। আবার কেউ তার জন্মের ২ বছরের মধ্যে লক্ষণ দেখানো শুরু করে।

আরও পড়ুন  মেয়েদের যৌনাঙ্গে চুলকানি হওয়ার 15টি কারন প্রতিরোধ ও প্রতিকার

১. অল্পতেই শরীর অবসন্ন হয়ে যাওয়া।

২. দুর্বলতা অনুভব করা।

৩. চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া।

৪. মুখের হাড়ে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়।

৫. ইউরিনের রঙ গাঢ় হয়ে যাওয়া (লাল লোহিত কনিকা ভেঙ্গে যাওয়ার লক্ষণ) ও চোখের রঙ হলদে হয়ে যাওয়া।

৬. খাওয়াতে অরুচি দেখা দেয়।

থ্যালাসেমিয়া রোগের চিকিৎসার কারণে শারীরিক অন্যান্য জটিলতা

থ্যালাসেমিয়া রোগের কারন, লক্ষণ এবং চিকিৎসার

বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞান অনেক এগিয়ে গেছে আর সেই সাথে মাঝারি থেকে প্রকট ধরনের থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসাও বর্তমানে সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু সব কিছুরই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া যে আছে তা মেনে নিতেই হবে।

১. হার্ট এবং লিভারের অসুখ

নিয়মিত ব্লাড ট্রান্সফিউশন (Transfusion) থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসার একটি প্রধান উপায়। ফলে রক্তে আয়রন ওভারলোড হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এতে অর্গান এবং টিস্যুর ক্ষতি হয়ে থাকে। বিশেষ করে হার্ট ও লিভার। হার্টের অসুখের মধ্যে অন্যতম হলো হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিওর (Heart failure), আর্থিমিয়াস (Arrhythmias).

২. ইনফেকশন

থ্যালাসেমিয়ার রোগীদের মৃত্যুর আরেকটি কারণ হল ইনফেকশন। বিশেষ করে যাদের স্প্লিন (Spleen) শরীর থেকে কেটে ফেলতে হয়েছে তাদের মধ্যে এই ঝুঁকি অনেক বেশি। কারণ ইনফেকশনের সাথে যুদ্ধরত অঙ্গটি আর শরীরে অবস্থান করছে না।

৩. অস্টিওপোরোসিস

যেসব মানুষদের থ্যালাসেমিয়া আছে তাদের মধ্যে হাড়ের সমস্যা যেমন অস্টিওপোরোসিস (Osteoporosis) দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এটি এমন এক সমস্যা যার ফলে শরীরের হাড় ক্ষয় হয়ে ভঙ্গুর হয়ে যায়।

 

থ্যালাসেমিয়া ডায়াগনোসিস/ থ্যালাসেমিয়া রোগের টেস্ট

 

থ্যালাসেমিয়া রোগের কারন, লক্ষণ এবং চিকিৎসা

ব্লাড টেস্টের মাধ্যমে আপনি থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত কিনা তা নির্ধারণ করা সম্ভব। ব্লাড টেস্টের অন্তর্ভুক্ত হল কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট আর স্পেশাল হিমোগ্লোবিন টেস্ট।

যদি আপনার সন্তান থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে থাকে তাহলে তার ব্লাড টেস্টে নিম্ন লিখিত পরিবর্তনগুলো দেখা যাবেঃ

১. অপর্যাপ্ত লোহিত রক্ত কনিকা।

২. স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট রক্ত কনিকা।

৩. ফ্যাকাসে লাল লোহিত কনিকা।

৪. লাল লোহিত কণিকাগুলোতে আনইভেন হিমোগ্লোবিন দেখা যাবে, যার ফলে কোষটি মাইক্রোস্কপের (Microscope) নিচে দেখতে বুলস আই (bull’s-eye) এর মত লাগবে।

থ্যালাসেমিয়া রোগির জিন এবং প্রেগন্যান্সি

থ্যালাসেমিয়া রোগের কারন, লক্ষণ এবং চিকিৎসা
ছবিঃ কালের কন্ঠ

১. সন্তান যদি বাবা-মা ২ জনের কাছ থেকে ২টি স্বাভাবিক জিন গ্রহণ করে তাহলে স্বাভাবিক রক্তের অধিকারী হবে।

২.সন্তান যদি ২ জনের মধ্যে যে কোন ১ জনের কাছ থেকে স্বাভাবিক জিন এবং আরেকজনের কাছ থেকে ভ্যারিঅ্যান্ট (Variant) জিন গ্রহণ করে তাহলে এটি থ্যালাসেমিয়ার প্রলক্ষণ।

৩. আবার সন্তান যদি বাবা-মা ২ জনের কাছ থেকেই একটি একটি করে থ্যালাসেমিয়ার জিন গ্রহণ করে তাহলে মাঝারি থেকে প্রবল আকারের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে।

আরও পড়ুন  মেয়েদের যৌনাঙ্গে চুলকানি হওয়ার 15টি কারন প্রতিরোধ ও প্রতিকার

 

থ্যালাসেমিয়া রোগ নিরাময়ের কিছু ঘরোয়া উপায়

আসলে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হলে তেমন কোন ঘরোয়া উপায় নেই এটি প্রতিরোধের জন্য। কিন্তু অবস্থার যেন আরও অবনতি না ঘটে সেটার জন্য আমরা আমাদের লাইফ স্টাইলে কিছু পরিবর্তন আনতে পারি।

১. অতিরিক্ত আয়রন গ্রহন না করা
অতিরিক্ত আয়রন গ্রহন থেকে বিরত থাকা। যতদিন না ডাক্তার আপনাকে রেকমেন্ড করে ততদিন আয়রন সমৃদ্ধ ভিটামিন গ্রহণ করবেন না।

২. স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য

ব্যালেন্সেড ডায়েট যা পুষ্টিগুণে ভরপুর এমন খাদ্য খাওয়া উচিত। এতে আপনার এনার্জি লেভেল বজায় থাকবে। চিকিৎসকেরা সাধারণত ফলিক এসিড (Folic Acid) গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন, এতে আপনার শরীরে নতুন রক্ত কনিকা তৈরি হয়। এছাড়াও দেহের হাড়ের সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি আর ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে।

৩. ইনফেকশন থেকে দূরে থাকুন
নিজেকে ইনফেকশন থেকে নিরাপদ রাখার জন্য সব সময় সাবান দ্বারা হাত পরিষ্কার করুন বিশেষ করে আপনার শরীর থেকে যদি স্প্লিন কেটে বাদ দেওয়া হয়ে থাকে এবং জ্বর সর্দি বা ছোঁয়াচে অসুখে অসুস্থ মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকুন। মেনিন জাইটিস (Menin Zytis) , হেপাটাইটিস বি এর ভ্যাকসিন গ্রহণ করুন ইনফেকশন থেকে বাঁচার জন্য।

৪.গর্ভধারণের পূর্বে টেস্ট

যদি একজন মহিলা অথবা তার স্পাউসের বংশে থ্যালাসেমিয়ার হিস্ট্রি থেকে থাকে তাহলে গর্ভধারণের আগে অবশ্যই ব্লাড টেস্ট করা উচিত। রক্ত পরীক্ষা আর ফ্যামিলি জেনেটিক পর্যবেক্ষণ করে জানা যাবে ২ জনের কেউ থ্যালাসেমিয়ার শিকার অথবা ক্যারিয়ার কিনা।

৫.বিয়ের আগেই ব্লাড টেস্ট
যদিও এই পদ্ধতি আমাদের সমাজে এখনও প্রচলিত নয়, তবুও আমাদের উচিত নিজেদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের স্বার্থে বিয়ের আগে হবু বর এবং বউয়ের রক্ত পরীক্ষা করা।

তবে আশার কথা হচ্ছে গবেষকরা থ্যালাসেমিয়া প্রতিকারের জন্য স্টাডি করে যাচ্ছেন। খুব শিগগির হয়তো ষ্টীম সেল Steam Cell) আর জিন থেরাপির (Gene Therapy) মাধ্যমে এর প্রতিকার সম্ভব হবে।

থ্যালাসেমিয়া রোগের চিকিৎসা

থ্যালাসেমিয়া মাইনরে সাধারণত চিকিৎসা প্রয়োজন হয় না। থ্যালাসেমিয়া মেজরে রক্তের হিমোগ্লোবিন কমে গেলে নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন করতে হয়। বার বার রক্ত গ্রহণের একটি বিপদজনক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো বিভিন্ন অঙ্গে অতিরিক্ত আয়রন জমে হওয়া। এর ফলে যকৃত বিকল হয়ে রোগী মারাও যেতে পারে। এধরণের জটিলতা প্রতিরোধে আয়রন চিলেটিং এজেন্ট দেওয়া হয়। যা দেহের অতিরিক্ত আয়রন বের করে দেয়।

আয়রন সমৃদ্ধ খাবার ও ওষুধ পরিহার করতে হবে। সঙ্গে ফলিক এসিড সাপ্লিমেন্ট হিসেবে দেওয়া হয়। এছাড়া বার বার রক্ত সঞ্চালনের ফলে রোগীর প্লীহা (SPLEEN) বড় হয়ে যায়, ফলে প্লীহা কেটে ফেলতে হয়।

আরও পড়ুন  মেয়েদের যৌনাঙ্গে চুলকানি হওয়ার 15টি কারন প্রতিরোধ ও প্রতিকার

থ্যালাসেমিয়া রোগের একটি কার্যকরী চিকিৎসা হচ্ছে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন (Bone Marrow Transplantation). কিন্তু এটি অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল।

থ্যালাসেমিয়া রোগের চিকিৎসা খরচ কত?

বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া রোগ আক্রান্ত রোগীর ৪৪ শতাংশের পরিবারেরই মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার নিচে। অথচ এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসায় মাসে কমপক্ষে পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়। সরকারিভাবেও কম করচে এই রোগের চিকিৎসার সুবিধা নেই। ফলে আক্রান্তদের চিকিৎসা করতে গিয়েই নিঃস্ব হতে হচ্ছে তাদের পরিবারকে।

চিকিৎসকরা বলছেন, থ্যালাসেমিয়া রোগের কোনো প্রতিষেধক বা সহজলভ্য স্থায়ী চিকিৎসা নেই। কেবল অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমেই এই রোগের নিরাময় সম্ভব। তবে তার খরচ অনেক বেশি। তাছাড়া ডোনারের অভাব ও বিভিন্ন ধরনের জটিলতার কারণে এই চিকিৎসাসেবা নেওয়া সবার পক্ষে সম্ভব নয়।

থ্যালাসেমিয়া রোগ প্রতিরোধের উপায়

থ্যালাসেমিয়া রোগের কারন, লক্ষন এবং চিকিৎসা

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব। এটি একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ।

যদি স্বামী-স্ত্রী দুজনই থ্যালাসেমিয়া বাহক বা একজন থ্যালাসেমিয়া বাহক এবং একজন হিমোগ্লোবিন-ই এর বাহক হয় তবে প্রতি গর্ভাবস্থায় এ রোগে আক্রান্ত শিশু জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা থাকে শতকরা ২৫ ভাগ, বাহক শিশু জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা থাকে শতকরা ৫০ ভাগ, আর সুস্থ শিশু জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা থাকে শতকরা ২৫ ভাগ।

স্বামী স্ত্রী দুজনের যেকোন একজন যদি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকেন, তাহলে নবজাতকের থ্যালাসেমিয়া হবার কোন সম্ভাবনা থাকে না। তবে নবজাতক থ্যালাসেমিয়ার বাহক হতে পারে যা কোন রোগ নয়।

তাই এ রোগের বাহকদের মধ্যে বিয়ে নিরুৎসাহিত এবং প্রতিহত করার মাধ্যমে সমাজে নতুন থ্যালাসেমিক শিশুর জন্ম হ্রাস করা যায়। সুতরাং দেরি না করে আজই থ্যালাসেমিয়া নির্ণয় এর জন্য হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস নামক পরীক্ষাটি করুন এবং আপনার শিশুকে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত হওয়া থেকে মুক্ত রাখুন ।

এছাড়া ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ন অর্থাৎ যেসব পরিবারে স্বামী ও স্ত্রী দুজনই এ রোগের বাহক অথবা যাদের এক বা একাধিক থ্যালাসেমিক শিশু আছে তারা গর্ভস্থ ভ্রুণ পরীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য থ্যালাসেমিক শিশু নির্ণয় এবং তা পরিহার (গর্ভপাত) করতে পারেন। গর্ভাবস্থার ১৬ থেকে ১৮ সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষাটি করালে ভালো হয়।

শেষ কথাঃ

জনসচেতনতার মাধ্যমে দু’জন থ্যালাসেমিয়া বাহকের মধ্যে বিয়ে বন্ধ করা গেলেই থ্যালাসেমিয়া রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। স্বামী-স্ত্রী উভয়ই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে গর্ভবতী মায়ের পেটের বাচ্চা থ্যালাসেমিয়ার রোগী কিনা তা নিশ্চিত হয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। এ ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১৪ সপ্তাহের গর্ভবতী মায়ের জরায়ুর রক্ত-পানি নিয়ে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যায়।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Related articles